এখন ভদ্রলোক দেখলেই ভয় পাই!
- মুহাম্মদ আলী আক্কাছ নূরী
গতকাল সন্ধ্যায়, জরুরী এক কাজে হামজারবাগ গিয়েছিলাম। আসার সময় এক রিক্সাওয়ালাকে ডাক দিলাম, এই রিক্সা যাবে? রিকসা ওয়ালা বলে, কোথায়। বললাম, সুন্নীয়া মাদরাসা। রিক্সাতে উঠে বললাম, এখান থেকে সুন্নীয়া মাদরাসা ২০ টাকা ভাড়া, দেখো আবার বেশী চেয়ো না। সাথে সাথে সে বলে, না দিলেও কিছু বলবো না, স্যার। রিকসা ওয়ালার জওয়াব শুনে কৌতুহল জাগে জানার। বললাম, এভাবে বললে কেন? সে বলতে শুরু করল, দুপুরে রিক্সা নিয়ে মুরাদপুর দাঁড়িয়েছিলাম। কোট টাই পরা এক ভদ্রলোক আমার রিক্সায় উঠে, আতুরার ডিপো যাবে বলে। বিবিরহাট পার হতেই ফোনে কার সাথে বলে, "৫০০ টাকার জন্য ফ্রিজ নিতে পারছো না? আচ্ছা, আমি আসছি" বলেই ফোনটা পকেটে রেখে, আমাকে বলে, তোমার কাছে ৫০০টা টাকা হবে? আমি নেমে, বাসা থেকে নিয়েই তোমাকে দিয়ে দিবো, সামনে একটি ফ্রিজের দোকানে আমার এক বন্ধু ফ্রিজ কিনতে এসেছে, ৫০০ টাকা সর্ট পরেছে। ৫০০ টাকার জন্য ফ্রিজটা নিতে পারছে না, তুমি তো আমার বাসায় যাচ্ছো। নেমেই তোমার টাকা, তোমাকে দিয়ে দিবো। তার কথাকে বিশ্বাস করে, ভাংতি টাকা মিলে ৫০০ টাকা দিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর, আমাকে দাঁড়াতে বলে, সে একটা ফ্রিজের দোকানে ঢুকে। আমি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলাম। প্রায় দশ-পনের মিনিট অপেক্ষার পরও যখন লোকটি আসছিল না, তখন রিক্সাটা রাস্তায় রেখে, ফ্রিজের দোকানে গিয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, দশ-পনের মিনিট আগে কি একটা ফ্রিজ বিক্রি করেছিলেন? দোকানদার জওয়াব দেয়, এক ঘন্টার মধ্যেও কোন ফ্রিজ বিক্রি হয়নি। তাকে পুরো ঘটনা বলার পর, দোকানদার বলে, ৫০০ টাকার কথা বাদ দাও। গাড়িটা আছে কিনা আগে দেখ। উনি এ কথা বলার পর, দৌঁড়ে দেখতে আসলাম গাড়ি আছে কি না। গাড়িটা দেখে, দুঃখে বুক ফেটে কাঁন্না এসেছিল। সকাল থেকে রিক্সা চালিয়ে, অনেক কষ্ট করে, ঐ ৫০০ টাকাই কামিয়েছিলাম। কিছু খাওয়ারও সুযোগ হয় নি। তখন আমার মাথা ঘুরিয়ে পরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। শরীরটা গির গির করছিল, দাঁড়াতে পারছিলাম না। অনেক্ষণ পর উঠে আবার মনে জোর নিয়ে রিক্সা চালিয়ে ৫০ টাকা ইনকাম করে নাস্তা করলাম। একবার আমার দামী মোবাইল সেট হারিয়ে গিয়েছিল, তখন তত কষ্ট লাগেনি, আজ ঐ ভদ্রলোক ৫০০ নিয়ে যে কষ্ট লাগিয়ে দিল। আজ অনেক কষ্ট করেছিলাম। মনে করেছিলাম, অনেক কষ্ট হয়েছে আজ আর গাড়ি চালাবো না, রেস্ট করবো কিন্তু ভদ্রলোকটি তা করতে দিলো না। তাই ভদ্রলোক দেখলেই, ভয় পাই। রিক্সাওয়ালাটার কথাগুলো শুনতে শুনতে কখন যে চলে আসলাম, সুন্নীয়া মাদরাসার পাশে, আমার অফিসে, বুঝতেই পারি নি। রিক্সা থেকে নেমে দশ টাকা বাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, নিলো না। সহজ সরল একটা মানুষ। হ্যাংলা-পাতলা গড়নের, মুখভর্তি দাঁড়ি। দেখতেও মায়া হয়েছিল। অমানুষগুলো ভদ্রলোক সেজে, এ দরণের দরিদ্র লোকগুলোকে কেন যে কষ্ট দেয়? একবারও কি তাদের বুক কাঁপে না? ভাবতেও অবাক লাগে। লিখাটি গতকালই লিখতে চেয়েছিলাম, সময় বের করতে পারি নি, তাই সাধারণকে সজাগ করার প্রত্যাশায় আজ লিখে দিলাম। -
- মুহাম্মদ আলী আক্কাছ নূরী
গতকাল সন্ধ্যায়, জরুরী এক কাজে হামজারবাগ গিয়েছিলাম। আসার সময় এক রিক্সাওয়ালাকে ডাক দিলাম, এই রিক্সা যাবে? রিকসা ওয়ালা বলে, কোথায়। বললাম, সুন্নীয়া মাদরাসা। রিক্সাতে উঠে বললাম, এখান থেকে সুন্নীয়া মাদরাসা ২০ টাকা ভাড়া, দেখো আবার বেশী চেয়ো না। সাথে সাথে সে বলে, না দিলেও কিছু বলবো না, স্যার। রিকসা ওয়ালার জওয়াব শুনে কৌতুহল জাগে জানার। বললাম, এভাবে বললে কেন? সে বলতে শুরু করল, দুপুরে রিক্সা নিয়ে মুরাদপুর দাঁড়িয়েছিলাম। কোট টাই পরা এক ভদ্রলোক আমার রিক্সায় উঠে, আতুরার ডিপো যাবে বলে। বিবিরহাট পার হতেই ফোনে কার সাথে বলে, "৫০০ টাকার জন্য ফ্রিজ নিতে পারছো না? আচ্ছা, আমি আসছি" বলেই ফোনটা পকেটে রেখে, আমাকে বলে, তোমার কাছে ৫০০টা টাকা হবে? আমি নেমে, বাসা থেকে নিয়েই তোমাকে দিয়ে দিবো, সামনে একটি ফ্রিজের দোকানে আমার এক বন্ধু ফ্রিজ কিনতে এসেছে, ৫০০ টাকা সর্ট পরেছে। ৫০০ টাকার জন্য ফ্রিজটা নিতে পারছে না, তুমি তো আমার বাসায় যাচ্ছো। নেমেই তোমার টাকা, তোমাকে দিয়ে দিবো। তার কথাকে বিশ্বাস করে, ভাংতি টাকা মিলে ৫০০ টাকা দিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর, আমাকে দাঁড়াতে বলে, সে একটা ফ্রিজের দোকানে ঢুকে। আমি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলাম। প্রায় দশ-পনের মিনিট অপেক্ষার পরও যখন লোকটি আসছিল না, তখন রিক্সাটা রাস্তায় রেখে, ফ্রিজের দোকানে গিয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, দশ-পনের মিনিট আগে কি একটা ফ্রিজ বিক্রি করেছিলেন? দোকানদার জওয়াব দেয়, এক ঘন্টার মধ্যেও কোন ফ্রিজ বিক্রি হয়নি। তাকে পুরো ঘটনা বলার পর, দোকানদার বলে, ৫০০ টাকার কথা বাদ দাও। গাড়িটা আছে কিনা আগে দেখ। উনি এ কথা বলার পর, দৌঁড়ে দেখতে আসলাম গাড়ি আছে কি না। গাড়িটা দেখে, দুঃখে বুক ফেটে কাঁন্না এসেছিল। সকাল থেকে রিক্সা চালিয়ে, অনেক কষ্ট করে, ঐ ৫০০ টাকাই কামিয়েছিলাম। কিছু খাওয়ারও সুযোগ হয় নি। তখন আমার মাথা ঘুরিয়ে পরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। শরীরটা গির গির করছিল, দাঁড়াতে পারছিলাম না। অনেক্ষণ পর উঠে আবার মনে জোর নিয়ে রিক্সা চালিয়ে ৫০ টাকা ইনকাম করে নাস্তা করলাম। একবার আমার দামী মোবাইল সেট হারিয়ে গিয়েছিল, তখন তত কষ্ট লাগেনি, আজ ঐ ভদ্রলোক ৫০০ নিয়ে যে কষ্ট লাগিয়ে দিল। আজ অনেক কষ্ট করেছিলাম। মনে করেছিলাম, অনেক কষ্ট হয়েছে আজ আর গাড়ি চালাবো না, রেস্ট করবো কিন্তু ভদ্রলোকটি তা করতে দিলো না। তাই ভদ্রলোক দেখলেই, ভয় পাই। রিক্সাওয়ালাটার কথাগুলো শুনতে শুনতে কখন যে চলে আসলাম, সুন্নীয়া মাদরাসার পাশে, আমার অফিসে, বুঝতেই পারি নি। রিক্সা থেকে নেমে দশ টাকা বাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, নিলো না। সহজ সরল একটা মানুষ। হ্যাংলা-পাতলা গড়নের, মুখভর্তি দাঁড়ি। দেখতেও মায়া হয়েছিল। অমানুষগুলো ভদ্রলোক সেজে, এ দরণের দরিদ্র লোকগুলোকে কেন যে কষ্ট দেয়? একবারও কি তাদের বুক কাঁপে না? ভাবতেও অবাক লাগে। লিখাটি গতকালই লিখতে চেয়েছিলাম, সময় বের করতে পারি নি, তাই সাধারণকে সজাগ করার প্রত্যাশায় আজ লিখে দিলাম। -


Social Link